দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পাওনা টাকাসহ সম্পদ ফিরে পেতে এবং দাদী, ফুফু ও ফুফাদের অত্যাচার-নির্যাতনের বিচার দাবিতে এতিম দুই কন্যাশিশুকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেসমিন আক্তার (৩৫) নামের এক অসহায় মা।
শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেসমিন আক্তার তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য মৃত আব্দুল গনি, প্রায় ছয় সাত বছর পূর্বে মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী জমিলা আক্তার, ছেলে জুয়েল মিয়া, চার মেয়ে কনা আক্তার, রিনা আক্তার, হেনা আক্তার ও সোমা আক্তারকে রেখে যান। তবে মেয়েরা সবাই বিবাহিত। এছাড়া বসতভিটা এবং কেন্দুয়া বাজারের খাদ্য গুদামের উত্তর পাশে দোকানসহ একতলা ভবন রেখে যান।
জেসমিন আক্তারের অভিযোগ, শ্বাশুরি জমিলা আক্তার, ননদ কনা আক্তার, তার স্বামী নজরুল ইসলাম, রিনা আক্তার, তার স্বামী কাজী মাহবুব আলম, হেনা আক্তার, তার স্বামী সোহেল এবং স্বামী পরিত্যক্তা সোমা আক্তারের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে তিনি বাধ্য হয়ে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরে তার স্বামী জুয়েল মিয়া গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পৈতৃক বসতভিটার ৭.৫৯ শতাংশ জমি চার বোনের কাছে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এরমধ্যে ১৫ লাখ টাকা নগদ এবং ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আবাদি জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে প্রদান করা হয়। বাকি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, চুক্তির কিছুদিন পর তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে তিনি ও তার দুই কন্যা বকেয়া টাকা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসলেও অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। এমনকি তার স্বামীর রেখে যাওয়া দোকানঘরের ভাড়াও জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সালিশে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতন ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার দুই এতিম কন্যার ভবিষ্যৎ ও ন্যায্য অধিকার বিবেচনায় বকেয়া পাওনা আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কারো কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমএম